Apps

Picture

নাসিরনগর থানা

Picture


নাসিরনগর থানার অফিসারদের নাম, পদবী ও মোবাইল নম্বরঃ-

 

অফিসার মোবাইল          ই-মেইল
 অফিসার ইনচার্জ 01320115111 ocnasirnagar@gmail.com
পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) 01320115112   
ডিউটি অফিসার 01320115116  

 

নাসিরনগর উপজেলা বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার একটি প্রশাসনিক এলাকা।

ইতিহাস

নামকরণ

কথিত আছে, হযরত শাহ জালাল (রহ.) সিলেটের গৌড় গোবিন্দ রাজার রাজ্য আক্রমণ এবং ইসলাম ধর্ম প্রচারের জন্য যাওয়ার পথে সিপাহসালার সৈয়দ নাসির উদ্দীন এখানে অবস্থান করেছিলেন। তার নামানুসারে এই এলাকার নাম নাসিরনগর রাখা হয়। এ ইউনিয়নের নাম থেকেই প্রথমে থানা এবং পরবর্তীতে নাসিরনগর উপজেলার নামকরণ করা হয়। অন্য একটি জনশ্রুতি হল, মোগল সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বকালে ঈশা খাঁ বংশের জনৈক মজলিশ গাজীকে সরাইল পরগণার দেওয়ান নিযুক্ত করা হয়। সেই বংশের জনৈক নাসির মাহমুদ দেওয়ানের নামানুসারে নাসিরনগরের নামকরণ করা হয়েছে।[১]

সাধারণ ইতিহাস

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার হাওর বেস্টিত ও দুর্গম উপজেলা নাসিরনগর। ১৭৬৫ সালে দেওয়ানী লাভের সময় নাসিরনগর ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর হস্তগত হয়। ১৮৩০ সালে সরাইল, দাউদপুর, হরিপুর, বেজুরা ও সতরকণ্ডল পরগনা ময়মনসিংহ হতে ত্রিপুরা জেলার কাছে হস্তান্তরিত হয়। ১৮৬০ সালে তৎকালীন ত্রিপুরা জেলার (১৭৯০ সালে ত্রিপুরা জেলা গঠিত হয় এবং ১৯৬০ সালের ১ অক্টোবর কুমিল্লা নাম রাখা হয়) অধীনে নাসিরনগর মহকুমার সৃষ্টি হয়। ১৮৭৫ সালে নাসিরনগর মহকুমাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহকুমা নামকরণ করা হয়। ১৭৯২ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি জেলাকে থানায় বিভক্ত করার নির্দেশ দেন। সিদ্ধান্ত হয় যে প্রতি ৪০০ বর্গমাইল পরিমিত এলাকা নিয়ে থানা গঠন করা হবে। ১৮৮৫ সালে তৎকালীন ত্রিপুরা জেলাকে এগারটি থানায় ভাগ করা হয়। তখন এ জেলাতে ১৫টি পুলিশ ফাঁড়িও ছিল। পুলিশ ফাঁড়ির সংখ্যা কমিয়ে দুটি করা হয়। পুলিশ ফাঁড়ি দুটি হল- নাসিরনগর এবং মরিচাকান্দি। ফৌজদারি কার্যক্রমের সুবিধার জন্য ১৯১০ সালে নাসিরনগর পুলিশ ফাঁড়িকে থানা হিসাবে ঘোষণা করা হয়। ১৯৮৩ সালে ১ আগস্ট নাসিরনগর থানাকে উপজেলায় রূপান্তরিত করা হয়।[১]

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস

১৯৭১ সালের ১৫ নভেম্বর পাক হানাদার বাহিনী উপজেলার কুণ্ডা, ভলাকুট, গোকর্ণ, নাসিরনগর সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে হামলা করে এবং অগ্নিসংযোগ করে বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়। এতে অনেক নিরীহ মানুষ নিহত হয়। উপজেলার তুল্লাপাড়া ও নাসিরনগর থানার কাছাকাছি পাক হানাদার বাহিনীর সাথে মুক্তিবাহিনীর মুখোমুখি যুদ্ধ হয়। পার্শ্ববর্তী উপজেলা কালাউকের (বর্তমান লাখাই) ফুলবাড়িয়া গ্রামে যুদ্ধ করতে গিয়ে এ উপজেলার চান্দেরপাড়া গ্রামের ছিদ্দিকুর রহমান নামে একজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। ৭ ডিসেম্বর নাসিরনগর হানাদার মুক্ত হয়।[১]

ঐতিহাসিক স্থাপনা

নাসিরনগর উপজেলার কৈলাসচন্দ্র সরকার ১৯১৭ সালে জগন্নাথ দেবের মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া উপজেলার ফান্দাউক গ্রামে মোগল আমলে নির্মিত একটি হিন্দু মন্দির রয়েছে। মন্দিরটির নির্মাণ কৌশলে মোগল স্থাপত্যের ছাপ সুস্পষ্ট। এছাড়া রয়েছে হরিপুর জমিদার বাড়ি (বড় বাড়ি)। কথিত আছে, ১৭৫ বছর পূর্বে জমিদার গৌরী প্রসাদ রায় চৌধুরী এবং কৃষ্ণ প্রসাদ রায় চৌধুরী বাড়িটি নির্মাণ করেন। প্রায় ৪৮০ শতাংশ জমির উপর নির্মিত বাড়িটিতে ৫০-৫৫টি কক্ষ রয়েছে।[১]

প্রাকৃতিক দুর্যোগ

১৯৭১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে চাপৈরতলা ও চিতনা গ্রাম দুটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয় এবং ১৯৭৪ ও ১৯৮৮ সালের বন্যায় এ অঞ্চল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।[২]

আয়তন ও অবস্থান

নাসিরনগর উপজেলার আয়তন ২৯৪.৩৬ বর্গ কিলোমিটার (৭২,৭৩৮ একর)।[৩] ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর থেকে প্রায় ২৯ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত এ উপজেলাটি চট্টগ্রাম বিভাগের সর্ব উত্তরের উপজেলা। এ উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিমে ও দক্ষিণে সরাইল উপজেলা, দক্ষিণ-পূর্বে বিজয়নগর উপজেলা, পূর্বে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলা, উত্তরে বলভদ্রা নদীহবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলা, উত্তর-পশ্চিমে মেঘনা নদীকিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম উপজেলা এবং পশ্চিমে মেঘনা নদীকিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলা অবস্থিত।

প্রশাসনিক এলাকা

নাসিরনগর উপজেলায় বর্তমানে ১৩টি ইউনিয়ন রয়েছে। মোট মৌজা ৯৬টি এবং মোট গ্রাম ১২৮টি। সম্পূর্ণ উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম নাসিরনগর থানার আওতাধীন।[৪]

ইউনিয়নসমূহ:

জনসংখ্যার উপাত্ত

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী নাসিরনগর উপজেলার মোট জনসংখ্যা ৩,০৯,০১১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১,৫০,৫৭৭ জন এবং মহিলা ১,৫৮,৪৩৪ জন। মোট পরিবার ৫৯,০২৪টি।[৩] জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে প্রায় ১,০৫০ জন।[৫]

 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 

নাসিরনগর উপজেলার ধর্মবিশ্বাস (২০১১)

  ইসলাম ধর্ম (৮৩.৬৮৪১%)
  হিন্দু ধর্ম (১৬.২৯৪২%)
  খ্রিস্ট ধর্ম (০.০০৭৮%)
  বৌদ্ধ ধর্ম (০.০০১৬%)
  অন্যান্য (০.০১২৩%)

ধর্মবিশ্বাস অনুসারে এ উপজেলার ২,৫৮,৫৯৩ জন ইসলাম, ৫০,৩৫১ জন হিন্দু, ২৪ জন খ্রিস্টান, ৫ জন বৌদ্ধ এবং ৩৮ জন অন্যান্য ধর্মের অনুসারী।

শিক্ষা ব্যবস্থা

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী নাসিরনগর উপজেলার সাক্ষরতার হার ৩৪.৯%।[৩] এ উপজেলায় ২টি ডিগ্রী কলেজ (১টি সরকারি), ২টি স্কুল এন্ড কলেজ, ১টি আলিম মাদ্রাসা, ১৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় (১টি সরকারি), ৫টি দাখিল মাদ্রাসা, ৮০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩৫টি রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৫টি কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১০টি এবতেদায়ী মাদ্রাসা এবং ৯টি কিন্ডারগার্টেন রয়েছে।[১]

উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

যোগাযোগ ব্যবস্থা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর থেকে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের সরাইল থেকে সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই-হবিগঞ্জ সড়ক হয়ে নাসিরনগর উপজেলায় যাতায়াত করা যায়। তবে উপজেলার আভ্যন্তরীণ যোগাযোগের মাধ্যম হল সড়কপথ ও নৌপথ। এ উপজেলার অনেক জায়গায় এখনো পায়ে হেঁটে যাতায়াত করতে হয়।

অর্থনীতি

নাসিরনগর উপজেলার প্রায় ৭১% লোক কৃষিজীবি। উপজেলার প্রধান প্রধান ফসলের মধ্যে ধান, গম, পাট, সরিষা, আলু ও ডাল। এ উপজেলার লোকজন নদী, পুকুর ও নলকূপ এর পানি গৃহস্থালির কাজে ব্যবহার করেন। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক ছেলেমেয়ে শিক্ষার আলো হতে বঞ্চিত। হাওড় বেষ্টিত উপজেলা হওয়ায় সারা বছর কাজ করার সুযোগ থাকে না। কেবল রবি/ইরি মৌসুমে কাজের সুযোগ থাকে। তাছাড়া এ উপজেলার বেশীর ভাগ জমি এক ফসলী। এ উপজেলার বেশীর ভাগ মানুষের অর্থনীতির সার্বিক অবস্থা ভাল নয়। এ উপজেলার অনেক লোক দারিদ্রসীমার নিচে বাস করেন। তবে এ উপজেলার মানুষ খুবই পরিশ্রমী ও কর্মঠ হিসেবে পরিচিত লাভ করেছে।[১০]

স্বাস্থ্য

নাসিরনগর উপজেলায় ৫০ শয্যাবিশিষ্ট ১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ১০টি কমিউনিটি ক্লিনিক, ৩টি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং ১০ শয্যাবিশিষ্ট ১টি পল্লী স্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে।[১]

ভাষা ও সংস্কৃতি

নাসিরনগর উপজেলাকে ঘিরে রয়েছে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম এবং সিলেটের লাখাই উপজেলা। তাই এই উপজেলার আঞ্চলিক ভাষা বিশ্লেষণে দেখা যায় এতে সন্নিহিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঢাকা এবং সিলেটের ভাষার মিশ্রিত বৈশিষ্ট্য রয়েছে। মেঘনা, লংগন, তিতাস, খাস্তি ইত্যাদি নদীর গতিপ্রকৃতি বিরাট হাওড় মানুষের আচার-আচরণ, খাদ্যাভ্যাস, ভাষা ও সংস্কৃতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। এ উপজেলার প্রচলিত সংস্কৃতিকে ধরে রাখতে জাতীয় ও ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি যেসব মেলার আয়োজন হয় তার মধ্যে কুলিকুণ্ডা শুটকি মেলা, ভলাকুট কার্তিক মেলা এবং গোকর্ণ সিদ্ধেশ্বরী মেলা উল্লেখযোগ্য।[১১]

নদ-নদী

 
নাসিরনগর নদী ঘাট

নাসিরনগর উপজেলায় প্রবাহিত নদ-নদীগুলো হল মেঘনা, তিতাস, লংগন, বলভদ্রা, কাস্তি এবং বেমালিয়া নদী[১২]

দর্শনীয় স্থান

  • কচুয়া দরবার শরীফ[২]
  • কাহেতুরা মসজিদ[২]
  • গুনিয়াউক বাগান বাড়ী[১৩]
  • গোকর্ণ নবাব বাড়ি[১৪]
  • জয়কুমার জমিদার বাড়ি
  • দাঁতমণ্ডল আজিজিয়া দরবার শরীফ[২]
  • নাসিরনগর জগন্নাথ মন্দির[২]
  • ফান্দাউক ইসকন মন্দির[২]
  • বড়ধলিয়া আবদুল্লাহ শাহ মাজার[১৫]
  • মেদির হাওড় মিনি কক্সবাজার[১৬]
  • সৈয়দ নাছিরুল হক মাসুম (রহঃ)-এর মাজার[১৭]
  • সৈয়দ ‘ম’ আলী (রহঃ)-এর মাজার[১৮]
  • হরিপুর বড়বাড়ি

কৃতি ব্যক্তিত্ব

জনপ্রতিনিধি

সংসদীয় আসন

সংসদীয় আসন জাতীয় নির্বাচনী এলাকা[২০] সংসদ সদস্য[২১][২২][২৩][২৪][২৫] রাজনৈতিক দল
২৪৩ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ নাসিরনগর উপজেলা বদরুদ্দোজা মোঃ ফরহাদ হোসেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসন

ক্রম নং পদবী নাম
০১ উপজেলা চেয়ারম্যান[২৬] রাফিউদ্দিন আহম্মদ
০২ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান[২৭] সৈয়দ ফজলে ইয়াজ আল হোসাইন
০৩ উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান[২৮] রুবিনা আক্তার
০৪ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা[২৯] আজগর আলী

 
Copyright © 2022 Superintendent of police, Brahmanbaria. Developed by Momtaj Trading(Pvt.) Ltd.